Writer : Nani Gopal Chowdhury
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Literature>Autobiography & Biography
- Publication Year : 2025
- ISBN No : 978-93-47012-92-1
- Binding : Paste Board (Hard) with Gel Jacket
- Pages : 168
- Weight : 425 gms
- Height x Width x Depth : 8.5x5.5x0.5 Inch
If so, it will be notified
About the Book
জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর শুধু সর্বকালের একজন শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবেই নয়, দিন-ই-ইলাহির মতো এক নতুন দর্শন তথা ধর্মভাবনার প্রবক্তা হিসেবেও পৃথিবীর ইতিহাসে স্মরণীয়। তাঁর ব্যতিক্রমী রাষ্ট্রভাবনা-যা ক্ষমতা, সহনশীলতা, প্রগতি ও সামাজিক ন্যায়কে পেরেছিল অভিন্ন সূত্রে গ্রথিত করতে-আজও প্রাসঙ্গিক। এই জীবনীগ্রন্থ সেই মহামতি সম্রাটের জীবন, সময় ও দর্শনের নিবিড় পাঠ।
১৫৪২ সালের ১৫ অক্টোবর সিন্ধুর উমরকোট দুর্গে জন্ম নেওয়া শিশুটিই যে একদা মহামতি আকবর নামে বদলে দেবেন ভারত ইতিহাসের গতিপথ, সে কথা কে ভাবতে পেরেছিল?
দুর্ভাগ্যপীড়িত পিতা হুমায়ূনের অস্থির জীবনের উত্তরাধিকার হিসেবে এক ভগ্নপ্রায় মুঘল রাষ্ট্রের দায়িত্ব এসে পড়েছিল তাঁর কাঁধে। নায়কোচিত পরাক্রম, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শী শাসকসুলভ বিচক্ষণতায় তাকেই তিনি কালক্রমে রূপান্তরিত করেন এক সুসংহত, স্থায়ী তথা সহিষ্ণু মুঘল সাম্রাজ্যে। ১৫৫৬ সালে মাত্র তেরো বছর বয়সে আকবর সিংহাসনে আরোহণ করেন। সেই বছরই পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে বিজয়লাভের মাধ্যমে তাঁর সামরিক তথা রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। এরপর বহু যুদ্ধে তিনি অবতীর্ণ ও বিজয়ী হলেও শত্রুদমনকেই তিনি রাষ্ট্রশাসনের একমাত্র নীতিতে পরিণত করেননি।
মনসবদারি প্রথার প্রবর্তন, টোডরমল প্রণীত রাজস্ব সংস্কার, প্রাদেশিক প্রশাসনের পুনর্গঠন প্রভৃতি সংস্কারের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা। সংখ্যাগুরু হিন্দু প্রজাদের আস্থা অর্জন করেন জিজিয়া কর প্রত্যাহার, রাজপুতদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন এবং প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদে হিন্দু অভিজাতদের অন্তর্ভুক্ত করে। ফতেহপুর সিক্রিতে প্রতিষ্ঠিত ইবাদতখানায় হিন্দু, মুসলমান, জৈন, খ্রিস্টান ও জরথুস্ত্র ধর্মগুরুদের সঙ্গে তাঁর প্রতর্ক শুধু ধর্মীয় কৌতূহল নিরসনে নয়, প্রযুক্ত হয়েছিল এক মানবিক রাষ্ট্রচিন্তার অনুসন্ধানে। এ থেকেই জন্ম নেয় আকবর প্রবর্তিত দীন-ই-ইলাহি যা নৈতিক ও মানবিক বিবিধ আদর্শের সমাহারে সর্বধর্ম সমন্বয়ের এক মার্গ উন্মোচিত করেছিল।
নিজে নিরক্ষর হলেও আকবর ছিলেন জ্ঞান ও বিদ্যাচর্চায় সবিশেষ উৎসাহী। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় মহাভারত, রামায়ণ-সহ বহু সংস্কৃত গ্রন্থ ফারসি ভাষায় অনূদিত হয়। শিল্পকলা ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রেও তাঁর শাসনামল নবযুগের প্রবর্তন করেছিল। বীরবল, টোডরমল, তানসেন, আবুল ফজল-সমকালীন ভারতের শ্রেষ্ঠ প্রতিভাধরদের সমন্বয়ে তাঁর নবরত্নসভা আজও আমাদের বিস্ময়ের উদ্রেক করে।
১৬০৫ সালে আকবরের জীবনাবসান হলেও তিনি রেখে যান এমন এক ব্যতিক্রমী রাষ্ট্রভাবনা, যা ক্ষমতা, সহনশীলতা, প্রগতি ও সামাজিক ন্যায়কে অভিন্ন সূত্রে গ্রথিত করতে পেরেছিল। এই জীবনীগ্রন্থ সেই অসামান্য শাসকের জীবন, সময় ও দর্শনের নিবিড় পাঠ।
ননীগোপাল চৌধুরী
বিশিষ্ট অধ্যাপক তথা ইতিহাস-বিষয়ক গ্রন্থ-প্রণেতা ননীগোপাল চৌধুরী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এ, ডি ফিল। দীনবন্ধু কলেজ, শিবপুরের প্রাক্তন এই অধ্যক্ষ স্মরণীয় হয়ে আছেন প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাস নিয়ে তাঁর তন্নিষ্ঠ গবেষণানির্ভর কয়েকটি অমূল্য গ্রন্থ প্রণয়নের জন্য।
মহামতি আকবরের শৈশব, সাম্রাজ্য বিস্তার, রাষ্ট্রসাধনা, অভিযান-পরিচালনা, সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য রক্ষা, ধর্মনিরপেক্ষ সাম্রাজ্যস্থাপন, প্রজানুরঞ্জন, কূটনৈতিক কুশলতা, ন্যায়পরায়ণতা, স্থৈর্য, বিচক্ষণতা- এসবই অপূর্ব সমগ্রতায় ধরা পড়েছে ননীগোপাল চৌধুরী প্রণীত ইতিহাস-নির্ভর অসামান্য সুখপাঠ্য আখ্যান শাহানশাহ্ আকবর গ্রন্থে। আকবরের জীবনের বিচিত্র সাধ, সংকল্প ও সিদ্ধির এ এক বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য দলিল। সাল-তারিখের কণ্টকাকীর্ণ পথে লেখক পরিভ্রমণ করেননি। একজন বর্ণময় সম্রাটের অনবদ্য জীবনকথা নিতান্ত আপনজনের মতো শুনিয়েছেন। যে লেখায় উচ্ছল যৌবনের উন্মাদনায় অধীর আকবর কীভাবে উপনীত হয়েছেন সার্থকতার তীর্থে, কীভাবে ঘটেছে তাঁর জীবনের সকরুণ পরিসমাপ্তি-সেই পথরেখাটি সহজেই চিনে নেওয়া যাবে।
এখানেই লেখকের সার্থকতা। অবসর জীবনে তিনি কলম ধরেছেন অতীত ভারতবর্ষের বর্ণময় দিনগুলিকে সুচিত্রিত করে তুলতে। তাঁদের জন্যই তিনি লিখেছেন এই বই, যাঁরা ইতিহাস পাঠ করে অবসর বিনোদন করতে চান। তবে ঐতিহাসিক রম্যরচনা এটি নয়, এক চলমান ইতিহাস। ইতিহাসকে অবিকৃত রেখে, সুপ্রচুর ফারসি শব্দ ও নামের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে, বহুবিধ বিতর্কিত বিষয় অবতারণায় সমুজ্জ্বল আকবর-জীবনী নির্মাণের ধারায় এটি এক অমূল্য সংযোজন।
অধ্যাপক চৌধুরীর আর একটি প্রখ্যাত গ্রন্থ: বিদেশী পর্যটক ও রাজদূতদের বর্ণনায় ভারত ।
